আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে: সি এস করিম

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কৃষি উপদেষ্টা সি এস করিম বলেছেন, বোরো ধান উৎপাদন বাড়াতে সরকার সার, বীজ ও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি বলেন, "এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। তবে আমরা অনেকটাই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।''

চলতি বছর ৪৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ টন। গতবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টন।

সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাদ্য উপদেষ্টা শওকত আলী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিআইডিএস এর মহাপরিচালক কাজী সাহাবুদ্দিন, গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক সাংসদ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ পড়েন সিপিডির গবেষণা বিভাগের প্রধান উত্তম দেব।

সি এস করিম বলেন, প্লাস্টিক, মেলামাইন, প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন শিল্পে এখন ইউরিয়া সারের ব্যবহার হচ্ছে। কৃষির জন্য নির্ধারিত সারের ভর্তুকি যাতে এ সব খাতে না যায় সেটি তদারকি করছে সরকার।

খাদ্য উপদেষ্টা শওকত আলী বলেন, "কৃষি ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। গত বছর কৃষি ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক ছিল না। এবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ বিতরণের বিষয়টি তদারকি করছে।"

সরকার বোরো উৎপাদনের ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে সংলাপে দাবি করেন মতিয়া চৌধুরী।

তিনি বলেন, "আমি এর বিপক্ষে নই। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।"

সার বিতরণে সরকারের অদক্ষতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "জরুরি অবস্থার মধ্যেও কৃষকরা সারের জন্য বিক্ষোভ করেছে। এর মানে, সার বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারের দক্ষতা ও যোগ্যতার অভাব ছিল। শুধু লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলে চলবে না। সেটি বাস্তবায়নের জন্য উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।"

No comments: